Wed. Feb 28th, 2024
    WhatsApp Group Join Now
    Telegram Group Join Now

    ওষুধ হিসেবে ব্যবহার- মূল।

     

    মাত্রা রস- ১২ থেকে ২৪ গ্রাম; চূর্ণ- ১২ গ্রাম পর্যন্ত।

    পরিচিতি- শতমূলীর কাণ্ড ও শাখা ক্ষীণ। এই গুল্ম প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায়। বেনের দোকানে শুকনো মূল বিক্রয় হয়। এর পাতা অতি ছোটো লতা কণ্টকাকীর্ণ।

     

    গুণাগুণ ও প্রয়োগ- শতমূলী তিক্ত মধুর রস, গুরু, স্নিগ্ধ, শীতবীর্য, রসায়ন,মেধা, অগ্নি ও পুষ্টিজনক। কান্তি, বল, শুক্র ও স্তন্যবর্ধক, চক্ষুর পক্ষে হিতকর। এতে বায়ু, পিত্ত প্রশমিত হয় এবং রক্তপিত্ত, প্রমেহ ও শোথ ইত্যাদি রোগেদ্রব্যগু হিতকর। উপরে বহু গুণের বিষয় লিখিত হলেও দেখা যায় শতমূলী বায়ুবৃদ্ধিজনিত দোষে ও স্নায়বিক দুর্বলতায় অমোঘ কার্যকরী ভেষজ। এর পাতা রাত্র্যান্ধতা নাশক।

     

    নানা রোগে প্রোয়গ এর নিয়ম

     

    নীচে অনেক গুলি রোগের ক্ষেত্রে এই শত মুলি গাছ এর ব্যবহার দেওয়া হয়েছে দেখতে পারেন। সত্যি এই গাছের বহু গুন আছে। তবে যে কোনো ওষুধ সে আয়ুর্বেদিক এই হোক বা হোমিওপ্যাথ বা এলোপ্যাথি ই হোক। সঠিক পরামর্শ নিয়েই ব্যবহার করিবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ভিউ এর জন্যে অনেক মিথ্যা টিপস দেয়। জীবন আপনার, আর সেই জীবন রাখ্যা করার দায়িত্ব টাও আপনার। নীচে পড়ুন।

     

    বায়ুরোগে- যেকোনো কারণে বায়ুবৃদ্ধি পেলে শতমূলীর রস সেবনে বায়ুর শাস্তি হয়ে থাকে। যদি অন্য কোনো প্রকার ওষুধ সেবন করা না যায় তা হলে কেবলমাত্র শতমূলীর রস ২৪ গ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকেলে একটু চিনি সহ সেবনে বায়ুর শান্তি হয়ে থাকে। এ ছাড়া শতমূলীকে বেশ করে শুকিয়ে চূর্ণ করে ওই চূর্ণ ডুবে যায় এমন পরিমাণ কাঁচা শতমূলীর রস দিয়ে ভিজিয়ে রোদে শুকনো করে আবার শতমূলীর রসে ডুবিয়ে ও রৌদ্রে শুকিয়ে, এই ভাবে অন্তত সাতবার করে শুকিয়ে, শিশিতে ভরে রেখে দিতে হয়। রোজ ওই চূর্ণ ১ থেকে ৩ গ্রাম মাত্রায় চিনি ও জলসহ সেবন করালে বায়ুর শান্তি হয়, স্নায়বিক দুর্বলতা দূর হয় মস্তিষ্ক ও দেহের বল বাড়ে এবং শরীরের পুষ্টি সাধন করে। এটি মূত্রকারক, এই কারণে মূত্রকৃচ্ছ্র রোগেও প্রযোজ্য।

     

    মূত্র রোগে- চরক মুনির এর মতে- কাঁচা শতমূলী ও গোক্ষুর প্রত্যেকটি ১২ গ্রাম মাত্রায় নিয়ে ৪ কাপ জল ও ১ কাপ দুধসহ পাক করে দুধ অবশিষ্ট থাকতে নামিয়ে সেই দুধটুকু পান করালে মূত্র পরিষ্কার হয় এবং মূত্রমার্গ দিয়ে ব্যথার সঙ্গে রক্ত নির্গত হলে তাও নিবৃত্তি হয়।

     

    মেহ রোগে- শতমূলীর রস ও কাঁচা দুধ একত্রে সেবন করালে অল্পদিনেই মেহ রোগের শান্তি হয়।

     

    বলাধান ও পুষ্টিকরণে- শতমূলীর মূল চূর্ণ ১২ গ্রাম, চিনি ১২ গ্রাম ও দুধ ২৫০ গ্রাম একত্রে সেবন বিশেষ হিতকর।

     

    শুক্রবৃদ্ধি করণে- শতমূলী চূর্ণ ১২ গ্রাম, চিনি ১২ গ্রাম ও দুধের সর ২৪ গ্রাম একত্রে সেবনে অপরিমিত শুক্র বৃদ্ধি পায় ও শুক্র গাঢ় হয়। শতমূলী গোদুগ্ধে পিষে পান করালে অপস্মার রোগ প্রশমিত হয়। অধিকন্তু অদৃশ্য অর্শের প্রশমনে ক্রিয়া করে।

     

    রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসারে- শতমূলী, জটামাংসী, কুড়, যষ্টিমধু, হরীতকী,আমলকী, বহেড়া এদের চূর্ণ সমানভাগে মিশিয়ে মিলিত চূর্ণ ১ থেকে ৩ গ্রাম মাত্রায় মিছরির জলের সঙ্গে সেবন করালে ঊর্ধ্ব রক্তচাপ হ্রাস পায়।

     

    পিত্তশূল ও দাহে- রোজ সকালে মধুর সঙ্গে শতমূলীর রস পান করালে পিত্তশূল, দাহ ও সবরকম পিত্ত বিকার প্রশমিত হয়।

     

    স্তন্য বৃদ্ধিকরণে- শতমূলী চূর্ণ ১২ গ্রাম ও দুধ ২৫০ গ্রাম অন্তত ১৫ দিন সেবন করালেই প্রসূতির স্তনদুগ্ধ অতিশয় বৃদ্ধি হয়।

     

    রসায়ন নিমিত্ত- বৃদ্ধদারজ বীজ চূর্ণকে শতমূলীর রসে সাতবার ভাবনা দিয়ে ১ গ্রাম মাত্রায় মধুসহ সেবনে পরম রসায়নতুল্য ক্রিয়া করে। এতে শরীরের ক্ষয় ও দুর্বলতাও প্রশমিত হয়।

     

    সতর্কতা :- এই পোস্টি শুধুই আপনাদের কে এই গাছের কাজ নিয়ে সচেতন করার জন্যে। এই পোষ্ট পড়েই কেউ আবার ডাক্তার করতে যেও না। না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্ব প্রয়োগ করবেন। আরো ভালো করে জেনেই প্রয়োগ করবেন। এই তথ্য সম্পূর্ণ ইন্টারনেট থেকে সংগৃত।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *