Wed. Feb 28th, 2024

                     বর্ষাকালীন রােগ ও তার প্রতিকার part-2

    কোমর ব্যথা হলে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন না হলে বিপদে পড়বেন জানুন বিস্তারিত।
    WhatsApp Group Join Now
    Telegram Group Join Now

    দেহের বন্ধ জায়গায়, বিশেষকরে সন্ধিস্থলে বর্ষায় ব্যাকটেরিয়া এবং কখনওবা নানাপ্রকার ফাঙ্গাশ সংক্রমণ হতে পারে। এইজন্য নিত্য গােসল করা প্রয়ােজন। সাথে সপ্তাহে কয়েকবার জীবাণুযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য রাখতে হবে বর্ষার পানি যেন বেশিদিন কোন জায়গায় জমতে না পারে। কারণ এই বদ্ধ জলাশয়ই মশার আঁতুঘর । আর এদের আক্রমণে এনকেফেলাইটিস, ম্যালেরিয়ার মত রােগের সৃষ্টি হতে পারে । গ্রামের রাস্তায় হাঁটার সময় অতি অবশ্যই জুতাে ব্যবহার করতে হবে। 

    কারণ ফাঁকা জায়গায় ত্যাগ করা মল, বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেলেও হুক ক্রিমির লার্ভা নগ্ন পায়ের চামড়া ভেদ করে দেহে প্রবেশ করে, অ্যানিমিয়ার মত ভয়ানক ব্যাধির সূত্রপাত ঘটায়। অত্যাধিক বৃষ্টিতে রাস্তায় জমা পানির মধ্যে অবস্থিত টাইম কলের বা টিউভওয়েলের মুখ যদি পানির তল থেকে অনেক ওপরে অবস্থিত না হয়, তাহলে সেই পানি বিশেষ করে খাদ্যের জন্য না গ্রহণ করা উচিত। 

    তবে কলেরা, উদরাময়, ব্যাসিলারি কিংবা এমােবিক ডিসেন্ট্রি বা আমাশয় নানাবিধ কৃমির আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রকার পাকাশয় সম্বন্ধীয় উপদ্রব উপস্থিত হয় এমন কোন খাবারের আগে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে হাতের নখ যাতে কোমে বড় না হয় । নির্দিষ্ট সময়ে তা কেটে ফেলতে হবে কারণ এর ফাকে নানাবিধ ব্যাধির উৎস লুকিয়ে থাকে ।

    সর্বশেষে সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে গ্রামের মানুষ, যারা এখনও পুকুরের কিংবা কুয়াের পানিকে পানীয় হিসাবে ব্যবহার করেন, তাদের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যথেষ্ট সচেতন করতে হবে শেখাতে হবে, কিভাবে ব্যবহারিক পানিকে জীবাণুযুক্ত করতে হয় ।

                                                      কোমরে ব্যথা অবহেলা করবেন না।

    কোমর ব্যথা হলে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন না হলে বিপদে পড়বেন জানুন বিস্তারিত।

    কোমরে ব্যথা, বেশির ভাগ মহিলাদেরই এটি একটি খুব সাধারণ অসুস্থতা। অনেকেই ব্যাপারটাকে প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। বিশেষত গৃহিনীদের, যাদের ছেলে-মেয়ে স্বামী, সংসার সামলে আর নিজেদের দিকে নজর দেবার মত সময় হয় না। কিন্তু শুধুমাত্র অতিরিক্ত খাটুনির জন্য নয়, কোমর ব্যথার পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আরও বৃহৎ কোন কারণ। যার মধ্যে একটি হল জরায়ু নেমে আসা । বিশেষত যে সব মহিলারা একটি বা একাধিক সন্তানের জননী তাদের অনেক সময়েই এমন সমস্যা হতে পারে।

    নানা কারণে জরায়ু নেমে আসার সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন জন্মগতভাবে কিছু ত্রুটি থাকলে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে সেক্ষেত্রে প্রথম যৌবন আসার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। কখনও কখনও অনেকগুলাে সন্তান ধারণ করার জন্য জরায়ুর বিভিন্ন অংশ ঢিলে হয়ে যায়,লিগারেমন্ট ঢিলে হয়ে যায় এবং তার অংশ যৌনিতে নেমে আসে । জরায়ুর টিউমার, ক্যান্সার ও জরায়ু নেমে আসার জন্য দায়ী হতে পারে। এছাড়া আমাশয়, উদরাময় এর জন্য এবং রেক্টাম নিচে নেমে আসার জন্যও দেখা দিতে পারে জরায়ুর নেমে আসার সমস্যা।

    জরায়ু নিচে নেমে আসার জন্য বহুবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে জরায়ুতে, কোমরে, পিঠে ব্যথা তো থাকেই । অনেক সময় জর হয় । অতিরিক্ত বেরিয়ে এলে প্রস্রাব, পায়খানা বন্ধ হতে পারে। কখনও কখনও ঘা হয়ে যায়। কখনও আবার এর থেকে ক্যান্সার হতে পারে। কাজেই একটু বয়স্ক মহিলাদের শরীরে সামান্য এ ধরনের অসুবিধা দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া উচিত। প্রথম দিকে সতর্ক হলে জানবেন কোন অসুখই তেমন মারাত্মক কোন ক্ষতি করতে পারে না।

                                                                 অন্যের চশমা পরবেন না

    কোমর ব্যথা হলে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন না হলে বিপদে পড়বেন জানুন বিস্তারিত।



    অন্যের চশমা পরবেন না

    প্রত্যেকের চশমার পাওয়ার তার চোখের প্রয়ােজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজনের সঙ্গে অন্যজনের চশমার মিল পাওয়া যায় না। এজন্য কখনই অন্যের চশমা ব্যবহার করা উচিত নয় । চোখ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে অন্যতম। চোখের মাধ্যমেই দৃশ্যমান পৃথিবীর নানা ঘটনার প্রতিফলন ঘটে মনের পর্দায়। দৃশ্যমান বস্তু হতে নির্গত আলােক-রশ্মি কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রসারিত হয়ে রেটিনায় পৌছায়।

     রেটিনা আলােকে-সংবেদি স্নায়ুতন্তুর মাধ্যমে সেই সংকেত মস্তিষ্কের বিশেষ অংশে অনুভূমি সৃষ্টি করে। আমাদের লেন্সের একটি নির্দিষ্ট প্রতিসরাঙ্ক আছে যা আলােকরশ্মিকে রেটিনায় সঠিকভাবে আপতিত বা ফোকাস করতে সাহায্য করে। কিন্তু নানা কারণে আলােক রশ্মি রেটিনায় স্পষ্ট ফোকাসতৈরি করতে না পারলে দৃশ্যবস্তুকে ঝাপসা দেখায়। তখন উপযুক্ত পাওয়ারের চশমার !

    সাহায্যে আলােক সঠিকভাবে রেটিনায় আপতিত করা হয়। ফলে সবকিছু আবার স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কোনও কারণে লেন্সের প্রতিসরাঙ্ক বা কর্নিয়ার কারভেচার পরিবর্তিত হলে চোখের দৈর্ঘ্য ছােট-বড় হলে রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয় না এবং সবকিছুকে ঝাপসা লাগে । লেন্সের পাওয়ার গ্লাস (উত্তল) বা মাইনাস (অবতল) হতে পারে। আবার প্রয়ােজন অনুসারে চশমায় স্ফেরিকাল, সিলিঞ্জিকাল অথবা মিশ্র(কম্পাউন্ড) প্লাস বা মাইনাস পাওয়ারের লেন্স ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ প্রত্যেকের চশমার পাও্যার তার চোখের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট থাকে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজনের সঙ্গে অন্যজনের চশমার মিল পাওয়া যায় না। এজন্য কখনই অন্যের চশমা ব্যবহার করা উচিত নয় ।


    যাদের চোখের পাওয়ার খুব বেশি তারা নিয়মিত চশমা পরলেও যাদের পাওয়ার অপেক্ষাকৃত কম তারা অনেক সময়ই নানা অদ্ভুত অজুহাতে নিয়মমত চশমা পরেন না। তারা মনে করেন চশমা পরলে চোখ নাকে দাগ হবে তা বয়স্ক দেখাবে। মনে রাখা দরকার অনিয়মিত চশমা পরার ফলে ঘাড়ে মাথায় ব্যথা, ঘন ঘন আঞ্জলি, চোখে পানি পড়া, চোখের ক্লান্তি, পড়াশুনার অমনােযােগ ইত্যাদি উপসর্গগুলি নিয়মিত সঙ্গী হয়ে যেতে পারে ।

    ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি এলে প্রায় সকলেরই কাছের জিনিস দেখতে সুচে সুতাে গাঁথা, বই পড়া অসুবিধা হয় একে বলা হয় (Prebiopia) বা চালশে। প্রয়ােজনমত প্লাস পওয়ারের চশমা পরলেই এ সম্যা দূর হয়। কিন্তু,অনেকেই দোকান থেকে একটা পড়ার চশমা (রিডিং গ্লাস) কিনে কাজ চালিয়ে দিতে চান । এরফলে সমস্যার সমাধান তাে হয়ই না উপরন্তু নানাপ্রকার চোখর জটিলতা বাড়তে থাকে। 

    Prebiopia ব চালশের চশমার পাওয়ার স্বাভাবিক নিয়মেই প্রায় প্রতি দু-বছর অন্তর একটু একটু করে বাড়তে থাকে। চশমা কখনও নাকের নিচে পরা উচিত নয়, পরতে হয় নাকের গােড়ায়। চশমা খোলা-পরা করবার সময় দুই হাতে ব্যবহার করুন। এর ফলে চশমার ফিটিংস ঠিক থাকবে। মাঝে মাঝে চশমাটি অ্যাডজাস্ট করে নিলে ভাল হয়। চশমার কাচ পরিষ্কার করবার দ্রবণ বা ক্ষারবিহীন সাবান দিয়ে চশমার কাছ দুটি ভালভাবে পরিষ্কার করে নিন । যাদের চোখে পাওয়া আছে, চশমা তাদের জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ। এর যথাযথ যত্ন নেওয়া বুদ্ধি মানের কাজ।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *