Wed. Feb 28th, 2024
    WhatsApp Group Join Now
    Telegram Group Join Now

    বিষয় সূচি ~

     বৈজ্ঞানিক নাম- #সিডা

    অনেকেই চেনেন, নয়াগ্রামের আনাচে কানাচে এই ভেষজ উদ্ভিদ প্রায় চোখে পড়ে। আমাদের চারপাশে অবহেলা অনাদরে বেড়ে ওঠা বেড়েলা  কিন্তু ভেষজগুণে অনন্য। এই গাছ সাধারণত ২-৩ ফুট লম্বা হয়। ভারতের উষ্ণ এবং নাতিশীতিষ্ণ অঞ্চলে এই গাছ হয়ে থাকে। বর্ষার সময় এই গাছ জন্মায়। ভাদ্র মাস থেকে ফুল ও ফল হয়। ফ্লাগুন চৈত্র মাসে এর বীজ পেকে পড়ে যায়। যেসব গাছে হলুদ ফুল হয়  তাদের বলা হয় পীত বেড়েলা। যে গাছে সাদা ফুল হয় তাকে শ্বেত বেড়েলা বলে। সাদা  ফুলের গাছ বেশি বড় হয় না। এই গাছ চাষ করতে হয় না। পতিত জমিতে এই গাছ নিজেই জন্ম নেয়। এই গাছ ভারত,বাংলাদেশ, নিউ গিনি, ফিলিপাইন সহ এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় জন্মে। এই গাছ থেকে নানা ধরনের ভেষজ উপকারিতা রয়েছে।

    Berala-tree

    এখন এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমরা জানব ।

    #রক্তপিত্ত :

    এই রোগের ক্ষেত্রে ২০ গ্রাম বেড়েলার সমগ্র গাছকে ক্বাথ করে চার কাপ জলে সিদ্ধ করে আধা কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে রাখতে হবে , তবে মূলাংশ বেশি থাকলে ভালো হয়, তারপর এক কাপ দুধ ঐ ক্বাথ মিশিয়ে একটু গরম করে ওটা খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন খেলে ওটা সেরে যাবে।

    #বাতরক্তে :

    রোগটা খুবই কঠিন, এটা শরীরের কোন অংশকে বিকৃত করতে পারে অথবা সংকুচিত করতে পারে । এক্ষেত্রে বেড়েলার মূল কুড়ি গ্রাম চার কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সেই ক্বাথ খেতে হবে । আর বেড়েলার ক্বাথ দিয়ে তৈরী যাকে বেড়েলার তেল বলে সে তেল সর্বাঙ্গে মালিশ করতে হবে ।

    #হৃদযন্ত্রের_বিবৃদ্ধি :

    এর অল্প খেলেই ভালো থাকেন, একটা জোরে চললেই হাঁপাতে থাকেন, দেীড়ানো তো দূরের কথা  এই ক্ষেত্রে শ্বেত বেড়েলার ছাল চূর্ণ আধ গ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকাল আধা কাপ অল্প গরম দুধের সাথে খেতে হবে।

    #অপুষ্টিজনিত_কার্শ্য_রোগ :

    অপুষ্টির কারণে শরীর যেখানে শুকিয়ে যাচ্ছে বা কৃশ হচ্ছে অথবা দূর্বল হচ্ছে সেখানে পীতপুষ্প বেড়েলার মূলের চূর্ণ দেড় গ্রাম বা ১৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় ধারোষ্ণ দুধ আধা কাপ ও একটু মিছরির গুড়া মিশিয়ে দু বেলা খেতে হবে।

                                        

    #আবহুক_রোগ :

    হাত ঘোরানো যায় না , পুরোপুরি উচু করাও যাচ্ছে না , এক্ষেত্রে দু রকম ফসলের সাদা এবং হলুদ বেড়েলা মূল ১৫-২০ গ্রাম নিয়ে ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে প্রতিদিন একবার করে খেতে হবে।

    #ফোড়া_সারাতে :

    বেড়েলার মূল বেটে ফোঁড়ার ওপর প্রলেপ দিলে ফোঁড়া দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

    #স্বরভঙ্গে :

    স্বরভঙ্গ হয়ে কথা বলতে সমস্যা হলে বেড়েলা ছাল মধু সহ মিশিয়ে চেটে খেলে স্বরভঙ্গ ভালো হয়।

    এছাড়াও বাঙালির ঘরে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন সকালে বাড়ির দেওয়ালে এর ফল টিপ দেওয়ার কাজে লাগে বলে গ্রামাঞ্চলে একে ” #টিপি_ফল ” নামেই অনেকে চেনেন।

    #চিরিপিটি তে ছবি তুলেছেন #সৌম্য

     

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *