Thu. Feb 15th, 2024

            শাল                                

    WhatsApp Group Join Now
    Telegram Group Join Now

    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।

    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।


    সংস্কার এমনি অবস্থা আনে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে তার নাম শুনলে মানুষের মনােবল কমিয়ে দেয়। তার মধ্যে সব থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—’যমের বাড়ি’, তারপরে হলাে এই শাল’—প্রথমােক্তটির অভিজ্ঞতা কেউ বলতে পারে না, কিন্তু দ্বিতীয়টির অভিজ্ঞতা অনেকের আছে কেউ বা ইচ্ছে করে নেয়, আবার কারর বা অনিচ্ছায়ও এসে পৌছোয়। এই ইচ্ছে-অনিচ্ছের পরিপ্রেক্ষিতে মহাভারতের একটা ঘটনা বলি—

    পঞ্চপাণ্ডব ও তাঁদের মা কুন্তীকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিলেন দুর্যধন , তার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন জতুগৃহ, যাকে বলে ‘গালার ঘর’ এদিকে পাণ্ডববদের প্রতি সহানুভূতিশীল বিদরের কূটকৌশলে সেযত্রা রেহাই পেয়েছিলেন তাঁরা। সুড়ঙ্গ পথ কেটে বেরিয়ে গিয়ে একেবারে দেশান্তরী হওয়ার জন্য। তারপর তাদের গােপনে বনাঞ্চল পরিক্রমা চলতে লাগলাে।

    সামনে নদী প’ড়বে জেনে বিদুরে আগেই যন্ত্রচালিত নৌকোর ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন, নদী পার হয়ে এক অজ্ঞাত দেশে এসে উপস্থিত,কিন্তু সেও আর এক গভীর অরণ্য। এবার পায়ে চলা পথ; কিন্তু তাও দিক হারিয়ে ঐ বনেই এদিক-ওদিক ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত তাঁরা। এক ভীম ছাড়া সকলেই ক্লান্ত ও পিপাসার্ত হয়ে অরণ্য ভূমিতেই বসে পড়লেন সকলেই।

    কুন্তী আর পিপাসা সহ্য ক’রতে না পেরে বললেন—বাবা ভীম! একটু, জল এনে দাও, আর আমি পিপাসা সহ্য করতে পারছি না। এই ক্লান্তিতে মাতা কুন্তী এবং আর চার ভাই নিদ্রিত হয়ে পড়েছেন। ভীম জল সংগ্রহ করে ফিরে এসে দেখলেন যে, সকলেই ক্লান্ত হয়ে নিদ্রিত। থাক, জাগাবাে না। এবার ঘুম ভাঙ্গার সময় হয়েছে, আমি অপেক্ষা করি, জাগলেই জল দেবাে।

    ভীম জেগে রইলেন। এদিকে ঐ বনের অদুরেই থাকতাে এক অনার্য ভীল। নরমাংসে তার বড়ই আসক্তি। অসহায় এবং নিদ্রিত ওই নধরগঠন মানুষগুলিকে দেখে লােভ তার সীমাহীন হ’লাে, নাম তার হিড়িব; আর তার কাছে থাকতাে তার যুবতী বােন “হিড়িম্বা”, এদের বাসস্থান ছিল ঐ বনেরই এক বিশাল শাল গাছে। ঐ ঘুমন্ত মানুষগুলিকে ধরে আনতে তার দাদা হিড়িম্বাকে পাঠিয়ে দিল। হিড়িম্বা দেখলে ওদের কাছে ব’সে আছে অপূর্ব সুন্দর এক যুবক, ওকে দেখে তার যৌবনের জ্বালা তখন সারা গায়ে ও মনে ছড়িয়ে পড়লাে।

    তারপর যেটা ঘটলাে তারই ফল স্বরুপ ঘটোৎকচের জন্ম হ’লাে হিড়িম্বার গর্ভে। কাটলাে সেখানে আর এক বৎসর এবং ভ্রাতা হিড়িম্বর জীবনায়, নিভিয়ে দিলেন ভীম। এ তাে মহাভারতের কাহিনী। কিন্তু এই কাহিনীর অন্তরালে ভারতীয় বৈদ্যগণ খুজে পেলেন একটি মহান বৈদিক ভৈষজ্য বক্ষের নাম—সেটি ‘শাল বৃক্ষ’।

    এই ভাষ্যটির অনুবাদ হ’লাে–সােম (এক ধরনের সুরা) নামক দ্রব্যের যতগলি যােনি নিরুপিত হয়, তাদের মধ্যে বন্য ও ওষধী।  ত্রিধা বিভক্ত শাল, সকলেই পাষাণভূমিতে জন্মগ্রহণ করে। সকলেই জঙ্গম সােম। (গতিশালী জঙ্গম) অথাৎ জগম প্রাণীদের সােমের (মদ্যের) আকর।

     বৈদ্যকের নথি


    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।

    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।


    আমরা শাল বক্ষকে চিনি, কিন্তু সেই বক্ষের যে তিনটি তেজ আছে এবং সেটি যে মদ্য রসের যােনি, সে পরিচয় অজ্ঞাত, কিতু বৈদিক সুক্তিতে এবং আয়ুর্বেদিক সংহিতায় দেখা যায় একটা তথ্য নিহিত আছে। এ সম্বন্ধে বােধ হয় চরকসংহিতার অনুশীলনই অগ্রণী, কারণ চরকের সুত্ৰস্থানের ২৫ অধ্যায়ে ৫৬ শ্লোকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এর ৩ প্রকার ভেদ বর্তমান; এই ত্রিবিধ শাল তাে আছেই, তাছাড়া আরও ১৭ প্রকার বৃক্ষের সার এবং এদের পুষ্প থেকেও মদ্য প্রস্তুত করা হয়।

    তিনটির মধ্যে প্রিয়কও শালের পর্যায়ে এবং সেটি যে পীতশাল (Pterocarpus marsupium) এ তথ্যের সমর্থন পাওয়া যায় সুশ্রুতের চিকিৎসা স্থানে নবম অধ্যায়ের সপ্তম শ্লোক । সেখানের প্রসঙ্গটি কুষ্ঠ চিকিৎসা বিষয়ে। আর অশ্ববকর্ণ  নামেও শাল গাছের একটি প্রকার ভেদ, সে সম্বন্ধেও সুশ্রুতের সুত্রস্থানের ৩৮ অধ্যায়ের ৬ শ্লোক শালসারাদি গণে, সেখানে অশ্বকর্ণ নামেই তাকে আখ্যাত করা হয়েছে। টীকাকার আরও বলেছেন, এটি শাল বৃক্ষেরই এক বিশেষ প্রকারভেদ।

     পরিচয়:-


    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।

    শাল গাছের পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি না। ছবি দেখেই বুঝতে বা চিনতে পেরে চেন। সরাসরি এই গাছের কাজ ও গুনা গুন নিয়ে আলোচনা করা যাক।

     নব্যের সমীক্ষায়


    ১। শালের আঠা কষায়ধর্মী এবং এটি পচন নিবারক ও যেকোন ঘা বা ক্ষতের পরিষ্কারক।

    ২। আঠা প্লাস্টারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

    ৩। ইহারা আঠা আগুনে ফেললে যে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, তা জীবাণুনাশক।

    ৪। কোন কোন চিকিৎসক বলেন—শালের আঠা চিনি সহযােগে খেলে আমাশয় রােগে ভাল ফল পাওয়া যায়।

    ৫। অনেকে বলেন—২০ গ্রেন মাত্রায় (১৫ গ্রেণ=১ গ্রাম) আঠা আধসের খানিক গরম দুধের সঙ্গে প্রত্যেকদিন সকালে খেলে কামােদ্দীপনার কাজ করে।

    ৬। গ্রামীণ চিকিৎসকগণ ইহার আঠা অগ্নিমন্দ্যে ও গনােরিয়ায় ব্যবহার করেন।

     লােকায়তিক যােগ


    ১। প্রমেহ রােগে:-এই রােগের উপস্যগর বর্ণনা এ রােগ দীর্ঘদিনের হ’য়ে গেলে মধুমেহ আসাট ই স্বাভাবিক। সুতরাং প্রথমাবস্থায় শাল সার ২০ গ্রাম থেতাে করে (কাঁচা হ’লে ভাল হয়) ৫০০ মিলিলিটার জলে সিদ্ধ করার পর ১০০ মিলিলিটার থাকতে নামিয়ে ছে’কে ওই জলটা দুবেলায় খেতে হবে। এর দ্বারা কয়েকদিনের মধ্যেই এটার উপশম হবে।

    ২। মেদো রােগে:- এটার সঙ্গে স্থল্য রােগের কোন সম্পর্ক নেই। এই মেদো রােগের কারণ থাকে আলু,ঘী,তেল জাতীয় জিনিস’ ও মিষ্ঠি কিম্বা শ্বেতসার জাতীয় জিনিসের অত্যধিক সেবন আর তার সঙ্গে কায়িক শ্রমের অভাব। আর রােগের কারণ থাকে আমাদের শরীরের মধ্যে যে গ্রন্থি আছে, তারই বিষম বণ্টন ব্যবস্থা তাতেই আসে স্থল্যরােগ। এটির বিশিষ্ট লক্ষণ হলাে নিম্নাঙ্গ অস্বাভাবিক মােটা,শক্ত ও ভারী হতে থাকে। এক্ষেত্রের বক্তৃব্য, যেখানে মেদ বৃদ্ধি হয়েছে, সেটার ক্ষেত্রেই প্রয়ােগ করতে হবে। মােটকথা, যেখানেই দেখা যাবে যে সমভাবেই সর্বাঙ্গ মােটা হয়েছে সেটাই মেদ বৃদ্ধি হয়েছে ধ’রে নিতে হবে।

    কচি শাল গাছের কাঠ ২৫ গ্রাম (কাঁচা হলে ভাল হয়) বেশ করে থেতাে করার পর ৪-৫ কাপ জলে সিদ্ধ করে আন্দাজ দেড় কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেকে এটাকে দু’বেলায় খেতে হবে। এইভাবে ২ সপ্তাহ খাওয়ার পর মেদ নিশ্চয়ই কমে যাবে।

    এর সঙ্গে আহারের দিকটাও মেনে চলতে হবে, অর্থাৎ দুবেলা ভাত, মিষ্টি, আলু একেবারে খাওয়া নিষেধ। ভাত একবেলা ও রুটি একবেলা খেতে হবে।

    ৩। জননেন্দ্রিয়ের রােগে:- আয়ুর্বেদিক সংজ্ঞায় একে বলা হয় যােনি রােগ। এরােগ মোটামটি বিশ প্রকারের। তার মধ্যে যেক্ষেত্রে এটি ব্যবহার্য সেটি হলো, জননেন্দ্রিয়ের মুখের কাছে সাদা সাদা কফের মত এসে জমে,কোন কোন ক্ষেত্রে সরের মতও বিবরের পাশে জমে যায়, আর ভিতরটা সাদা পিচ্ছিল থাকে। এটা ক্ষয় মুলক শ্বেত প্রদর রোগ।

    এক্ষেত্রে কচি শাল গাছের কাঁচা কাঠ ২৫ গ্রাম ভালভাবে থেতো ক’রে ৪। ৫ কাপ জলে সিদ্ধ করার পর যখন আন্দাজ দেড় কাপ থাকবে তখন নামিয়ে, ছেঁকে ঠাণ্ডা হ’লে ওই জলটা বেলায় খেতে হবে। শুধু তাই নয়, যদি সম্ভব হয় এই হিসেবে আর একটা জল তৈরী করে ছেঁকে সেই জলে পিচকারি বা ডুস নিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। তাহলে এটা তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।

    ৪। ক্রিমিতে:- ক্রিমির উপদ্রব আছে, শুধু তাই নয় ; মাঝে মাঝে মলের সঙ্গে পড়ে, সেক্ষেত্রে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে ক্কাথ তৈরী করে বয়সানুপাতে মাত্র ঠিক করে সাকালে বৈকালে ২ বার খাওয়ালে কয়েকদিনের মধ্যেই এই উপদ্রব কমে যায়।

    ৫। ঘর্ম রােগে:- যাঁর পিও-শ্লেষ্মা কিংবা শ্লেষ্মা-পিত্তের প্রকৃতির লোক তারা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অর্শরােগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এদের দেহটা সাধারণতঃ কৃশ থাকে না। অল্প শ্রমেই ঘাম হষ। গরম সহ করতে পারেন না। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এদের হাঁপানি হয়। এইসব লক্ষণের সঙ্গে মিশে গেলে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে কচি শাল গাছের ছাল ২০ গ্রাম ৪-৫ কাপ জলে সিদ্ধ করে আন্দাজ এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ওই জলটা দুবেলায় খেতে হবে। সপ্তাহ দুইয়ের মধ্যে এর উপকারিতা উপলব্দি করা যাবে।

    পাতার ব্যবহার


    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।


    ৬। প্রমেহ রােগে:- শালপাতা (কচি এবং কাঁচা) ২০। ২৫ গ্রাম থেতাে করার পর তাকে ৪। ৫ কাপ জলে সিদ্ধ করে আন্দাজ এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে সেই জলটা ২ বেলায় খেতে হবে। এটাতেও প্রমেহ রােগের উপশম হয়।

    ৭। কৃমি তে:-  কচি শালপাতা অল্প জল দিয়ে থেঁতো করে তার রস ১ চামচ ও তার সঙ্গে একটু, জল মিশিয়ে গরম করে, ঠাণ্ডা হ’লে সেই রসটা খাওয়াতে হবে।

    ⛔ তবে বালকদের মাত্রা অর্ধেক।


    ৮। শিরাে রােগে:- বায়ু, জন্য মাথার রােগে, প্রায়শঃ বৈকালের দিকে মাথাটা ভার হয়, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে জ্বর ও হয়, মাথা টলে, বুকেও ভার বোধ হয়, সেই সময় ২। ৩ টি শালপাতা ৪ কাপ জল সিদ্ধ করে আন্দাজ এক কাপ’ থাকতে নামিয়ে ছেকে ওই ক্বাথটা সকালে বৈকালে দু’বারে খেতে হবে। দেখবেন খুব ভালো কাজ হয়েছে।

    ৯। রক্তপিত্ত রােগে:- এই রোগ প্রবল হ’লে, রক্ত বমন হতে থাকবে। তবে এই রক্ত হঠাৎ বন্ধ করতে নেই, এ সম্বন্ধে চিকিৎসা শাস্ত্রে গভীর আলোচনা করা হয়েছে, সেই জন্য যাতে ধীরে ধীরে বমির বেগ এবং রক্ত ওঠাটা কমে আসে তার জন্য শালপাতা ২০-২৫ গ্রাম ৩। ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে আন্দাজ দুই কাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে সেই জলটা ৩। ৪ বার একটু একটু করে খেতে হয় । এভিন্ন ২ গ্রাম ধুনাে গরমজলে (২ কাপ জলে) ৪-৫ ঘন্টা বাদ সেটা ছেঁকে সেই জলটা ৩। ৪ বারে খেতে হবে ।এটাতে রক্তপিত্তের আরাম হয়।

    ১০। রক্ত আমাশয়ে:- এই রােগটি গ্রহণী রোগের প্রথমবস্থা। এই রোগে ক্লান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরই বিপদ বেশি এক্ষেত্রে ধুনোর মিহী চূর্ণ ২৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় প্রতাহ দুইবার অথবা তিনবার করে জল সহ খেতে হবে। তবে বলকের মাত্রা অর্ধেক।

    ১১। অম্লরোগ:-  চলতি কথায় আমরা একে অম্বলের রােগ বলি। যাঁদের অম্বল হয় অথচ বহিঃপ্রকাশ কম, সে রোগকে  আমরা “চারা অম্বল বলি। এর ফলে অনেকের ঘুস ঘুষে জ্বর ও হয়, অরুচি হয়, প্রস্রাব কমে যায়, এসবের একটু লক্ষণ দেখা দিলেই ধূনোর মিহি গুড়ে ২০০ মিলি গ্রাম প্রতাহ দু’বার করে ঠাণ্ডা জলসহ খেতে হবে। এই ভাবে  চোরা অম্বল কাজ দেবে।

    ১২। গণােরিয়ায়:- এও এক ধরনের শোথযুক্ত (লিঙ্গ মূলে) শুক্রমেহ রোগ,আবার অনেক সময় কোঁৎ দিলে লিঙ্গের অগ্রভাগ থেকে কফের মত কি নিঃসরিত হয়। ওটা শুক্র নয়। জুননগ্রন্থির উত্তেজনায় রসনিঃসরণ। এটা দেখা দিলে বুঝতে হবে অগ্নিমন্দা তে, আগেই হইছে এবং তার সঙ্গে শরীরের কৃশতা ও হচ্ছে । এই সময় প্রত্যহ দুবেল একটু দুধ কিংবা বেদানার রস সহ ২৫০ মিলিগ্রাম ধুনাের গুড়া (মিহি) খেতে হবে। 


     বাহ‍্য ব‍্যবহা্র

    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।


    শাল গাছের ওষুধি গুনাগুণ | জানুন এই শাল গাছের গোপন উপকারীতা।

    আর এক প্রকারে এর  ভেষজ নির্যাসের ব্যবহার যােগ্যতা আছে।

    প্রস্তুত বিধি:- শাল কাঠের সারাংশ কুট নিতে হবে ; তারপর তার ৮ গুন জলে সিদ্ধ ক’রে সিকি ভাগ (চতুর্থাংশ} থাকতে নামিয়ে ছেকে তাকে মৃদু অগ্নিতে বসিয়ে ঘনসার ক’রতে হবে, তারপর তাকে ব্যহার করার সময় পরিমাণ মত জল মিশিয়ে পাতলা করে নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

    ১৩। কানের পুঁজে:-  অল্প জলে একটুখানি গুলে নিয়ে ফোঁটা দিলে (দিনে একবার) ২। ৪ দিনের মধ্যেই কানের পুজ পড়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং একেবারে সেরে যাবে।

    ১৪। ফোড়ায়:- কচি শালপাতা বেটে অল্প গরম ক’রে প্রলেপ দিলে পাকিয়ে দেবে, পরে ঐ শালেরই কচি পাতা সে’কে নিয়ে ফোড়ার মুখের কাছ টায় আলগা ভাবে চেপে বেধে রাখতে হবে। এর দ্বারা ভালভাবে পেকে ফেটে যাবে। তারপর ঐ শালেরই কচি কাঠ সিদ্ধ জল দিয়ে ধুয়ে দিলে তাড়াতাড়ি ওটা শুকিয়ে যাবে।

    ১৫। ক্ষতে পােকা হ’লে:- ওই কাঠের ক্কাথ দিয়ে ধােয়ালে পােকা আর থাকবে না এবং আর হবেও না।

    ১৬। কুচকি ফোলায়:- এমনকি বাগী হ’লেও কচি শালপাতা বেটে অল্প গরম করে ওখানটায় পুরো, করে প্রলেপ দিলে দুই-এক দিনের মধ্যে ব্যথা ও ফলে দুই-ই কমবে।

    ১৭। চুলকণায়:-  ১০। ১২টি পাতা দুই লিটার জলে সিদ্ধ করে আন্দাজ এক লিটার থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে  ওই জলটা সমস্ত শরীরে লাগিয়ে একটু, ঘষে দিয়ে এরপর ঈষদুষ্ণ জলে স্নান ক’রে ফেলতে হয়। এর দ্বারা গায়ের দুর্গন্ধও চ’লে যায় এবং চুলকনাও সেরে যায়।

    সতর্কতাঃ- যে কোনো ভেষজ ঔষধ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই জনকারী ভালো ভাবে নেবেন। ওষুধ প্রয়োগ নিজ দায়িত্বে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *