Sun. Mar 3rd, 2024

     ফুটকি বা দাঁতরাঙ্গা গাছের উপকারিতা।

    ফুটকি বা দাঁতরাঙ্গা গাছের উপকারিতা ও পরিচয়
    WhatsApp Group Join Now
    Telegram Group Join Now

    জঙ্গল দেশের লালমাটির বনে এই ফুলটি দেখা যায়। হলফ করে বলতে পারি অনেকেই এর নাম জানেন না। আদর করে দেশী রডোডেন্ড্রন বলাই যায়। পাতাটা দেখতে তেজপাতার মত বলে কেউ কেউ বনতেজপাতাও বলেন।

    শুনেছি বৃটিশরা নাকি এই গাছ দেখে নির্ধারণ করত এলাকাটি চা বাগান করার উপযুক্ত কীনা? বাংলায় ফুলটির নাম ফুটকি বা দাঁতরাঙা। এটি এক ধরনের গুল্ম জাতীয় গাছ। এদের অন্যান্য নামের মধ্যে আছে লুটকি, ফুটুল, বেগমবাহার, টিকুচিনা ইত্যাদি। জঙ্গলমহলে দাঁতরাঙাকে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় গাছ হিসেবে মনে করা হয়। তবে বর্তমানে এদের কিছু ভেষজ গুণাগুণ জানা গেছে।

    ফুটকি বা দাঁতরাঙ্গা গাছের উপকারিতা ও পরিচয়

    বিবরণ: দাঁতরাঙা গাছ উচ্চতায় ১ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকলেও কখনো কখনো ৩ মিটার উচ্চতার গাছও চোখে পড়ে। তেজপাতার ন্যায় দেখতে এর পাতার দৈর্ঘ্য ৪ হতে ১১ সেন্টিমিটার; প্রস্থে ১.৩ সেন্টিমিটার যাতে ৫ হতে ৭টি শিরা থাকে।

    এদের কাণ্ডের রং লালচে। এসব গাছের কাণ্ড নরম, সরল পত্র এবং প্রায় সারা বছর উজ্জ্বল বেগুনি রঙের ফুলে গাছ ভরে থাকে। এই ফুলে পাপড়ি থাকে মোট পাঁচটি। মাঝখানে হলুদ পুংকেশরের গুচ্ছ থাকে। এই পুংকেশর ফুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।

    ফুলটির স্থায়িত্ব মাত্র একদিন। ফুল ফোটার পর গাছে ছোট ছোট ফল হয়। ফলের রঙ সবুজ। ফল পাকলে ফেটে যায় আর ভেতরের কালো শাঁস ফাটা অংশ দিয়ে বের হয়ে থাকে। পাকলে ফলগুলো খেতে তেতো-মিষ্টি লাগে। গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এ ফল খুব মজা করে খায়।

    ফল খাওয়ার পরে দাঁত ও জিহবা বেগুনি রঙে রঙিন হয়ে যায়। এই কারণেই এদের নাম হয়েছে দাঁতরাঙা। আদি ফুটকির প্রাকৃতিক রং গোলাপি এবং মেজেন্টা হলেও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা ইদানিং বিভিন্ন রঙের হাইব্রিড ফুটকি উৎপাদন করছেন। বাণিজ্যিকভাবে এর চাষও হচ্ছে।

    বিস্তৃতি: 

    ফুটকি গুল্ম হিসেবে সারা দেশেই কম-বেশি জন্মে। ছোটনাগপুর মালভূমির ভেতরে এটি প্রধানত পাহাড়ি বা উচুঁ এলাকায় সহজে জন্মে থাকে। দাঁতরাঙা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশেই জন্মে থাকে। তবে এদের প্রাচুর্য এশিয়ার মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বেশি।

    ব্যবহার:

     ফুটকির রয়েছে নানাবিধ ঔষধি গুণ। লোকায়তিক চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হতে দেখা যায়। এটি কৌষ্ঠ্যকাঠিন্য রোগে ব্যবহৃত হয়। দাঁতরাঙার পাতার নির্যাস মানবদেহের ক্যান্সার, হৃদরোগ রোধে সহায়ক। তাছাড়া এর পাতার রস আমাশয়, পেটব্যথা, বাত ও বাতজ্বর দূর করতে পারে। আলসার, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁত ব্যথা, চর্মরোগ ও ডায়রিয়া চিকিৎসায় দাঁতরাঙা ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। কাটাছেঁড়ায় ফুটকির পাতা তাৎক্ষণিক রক্ত পড়া বন্ধ করে।

     এ গুল্মের আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল যেখানে দাঁতরাঙা ফোটে সেখানে চা বাগান তৈরি করা যায়। আর সে কারণেই টি ইন্ডিকেটর বা চা নির্দেশক শ্রেণীর উদ্ভিদ হিসেবে একে ধরে নেয়া হয়।

    লেখক – সুনীপম মহাকুল

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *