Thu. Feb 22nd, 2024
    WhatsApp Group Join Now
    Telegram Group Join Now

     

    নিজের দেহটাকে ভাল রাখুন

     

    গ্যাস অম্বল চিকিৎসা না করলে বিপদ ডেকে আনে | হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও পরামর্শ জানুন।

     

     

      গ্যাস অম্বল হলে সাবধান  -গ্যাস অম্বল চিকিৎসা না করলে বিপদ ডেকে আনে | হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও পরামর্শ জানুন।

     

    গ্যাস অম্বল কোনদিন হয়নি এমন ব্যাক্তির সংখ্যা নেই বললেই চলে,কিন্তু কখনই এই রােগকে অবহেলা করবেন না। দিনের পর দিন এর থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি পেতে বিজ্ঞাপনের ওষুধ মুড়ি মুড়িকর মত খাবেন না। গ্যাস অম্বল হওয়ার জন্য রােগি তাে কষ্ট পায়ই এমনকি গ্যাস অম্বল থেকে অন্য অনেক রােগের উৎপত্তি হতে পারে।

     

     কিন্তু আমাদের দেখতে হবে ঠিক কি কারনে এই গ্যাস অম্বল হয়- দীর্ঘ দিন আমাশয় ভুগলে, ঘাড়ে স্পন্ডিলাসিস থাকলে, গলব্লাডারে পাথর জমলে বা “নন ফ্যাংশনাল ”হলব্লাডার থাকলে, লিভারের অসুখ থাকলে, কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে,মানসিক অবসাদ এবং খুব সাধারন ভাবে গ্যাস্ট্রিক আলসার বা পেপটিক আলসার থাকলে গ্যাস অম্বল থেকে ভােগান্তি অবশ্যম্ভাবি। সময়মত খাবার না খেলে ও গ্যাস অম্বল হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হল ব্লাডারেই তাদের বেশি বিপত্তি দেখা যায়।

     

    সাধারনত মহিলারা নিজেদের খাবার সময়-এর ব্যাপারে খুবই উদাসীন | সারা দিনের সমস্ত কাজ করার পর তাঁরা খাবার খান বা অনেক সময় সারাদিন উপােস করেন। দীর্ঘদিন বা দীর্ঘক্ষন না খাওয়ার ফলে গলব্লাডারের ওপর চাপ পড়ে।

    গলব্লাডারে পাথরের জন্ম হয় এবং সামান্যতম তেল ঘি মশলাদার খাবার খেলেই অম্বলের উদ্রেক হয়। একটি ফর্মুলার কথা বলি ইংরেজি এফ’ এর-(ক) ফিমেল (খ) ফারটাইল -সন্তান ধারন ক্ষমতাশালী মহিলা (গ)ফেয়ার- ফসা (ঘ) ফ্যাটি- মােটাসােটা (ঙ) ফরটি- চল্লিশ বছর বয়সের আশে পাশে (চ) হ্যামস্টিং- দীর্ঘদিন দীর্ঘক্ষন ধরে না খাওয়া।

     

    দীর্ঘদিন যদি এইজনিত গ্যাস অম্বল অবহেলা করেন তাতে গলব্লাডারে পাথর জন্মায় এবং কমন বাইল ডাস্ট-এ সেই পাথর আটকে গেলে অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস দেখা দেয় এবং পুরাে ব্যাপারটাই জটিল আকার ধারন করে।

    সময় থাকতে চিকিৎসা করালে রােগি অবশ্যই আরােগ্য লাভ করবে। গ্যাস্টিক আলসার বা পেপটিক থেকেও গ্যাস হলে হঠাৎ জটিল আকার ধারন করে জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। মুড়ি মুড়কির মত বিজ্ঞাপনি ওষুধ খেয়ে নিজের বিপদ ডাকবেন না।

     

     

    হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও পরামর্শ

     

    গ্যাস অম্বল চিকিৎসা না করলে বিপদ ডেকে আনে | হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও পরামর্শ জানুন

     

    বুকের বাঁ দিকে ব্যথা। গলার দুপাশে চেপে ধরার অনুভূতি।চোয়ালে ব্যথা। বুকের ঠিক নিচে পেটের মাঝখানে ব্যথা ।পিঠ ও দুই কাঁদের মধ্যে ব্যথা । বাহু ও হাতে ব্যথা। এই ব্যথা দুই হাতে বা এক হাতে ও হতে পারে।

    তবে এই লক্ষন মানেই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন নয়। যদি এই সব লক্ষণের সঙ্গে ঘাম দিতে থাকে তবে তা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দেয়।

     

    বাড়িতে এইসব লক্ষণ কারও দেখা দিলে প্রথমেই রােগিকে শুইয়ে দেবেন। গরমকাল হলে দরজা জানালা খুরে নিন। তবে শীতকাল হলে দরজা জানালা না খুলে আস্তে করে ফ্যান চালিয়ে দিন । কোন তরল পানীয় খাওয়ানের চেষ্টা করবেন না। ঘরে সরবিট্রেট ট্যাবলেট থাকলে জিভের তলায় দিতে পারেন। তবে এ ধরনের রােগিকে বেশিক্ষন ঘরে না রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার।

     

    ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে

     

    ভারতবর্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ’ডয়াবেটিস মেলিটাস’ রােগে ভােগেন। এই রােগে দেহে ইনসুলিনের অভাব ঘটে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় । অগ্নাশয়ের ‘আইলেটস অফ ল্যাঙ্গার হানস’-এর ‘বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন হমোন নিঃসৃত হয়।

    রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মান, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রন করে। ফলে, ইনসুলিনের অভাব ঘটলে ধীরে ধীরে ব্লাড সুগার বাড়তে থাকে । নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর মূত্রের সঙ্গে ক্রমাগত রক্তের অতিরিক্ত চিনি বেরিয়ে যেতে থাকে । ফলে বার বার প্রসাব হয়, দেহ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

    স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন বয়সে ডায়াবেটিস হতে পারে সাধারনত দু ধরনের মানুষের মধ্যে এই রােগের প্রবনতা বেশি থাকে,(১) যাদের বংশে এই রােগ আছে এবং (২) মধ্য বয়স্ক, মেদ প্রধান এবং হাইপারটেনশনে যারা ভুগছেন আছােড়া ও অবশ্য নানা কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে।

    লক্ষণ:- রােগের শুরুতে বারবার এবং বেশি করে প্রসব হয়, প্রসাবের সময় মূত্রদ্বার জ্বালা করতে পারে। পানি পিপাসা বেড়ে যায়। দেহের বভিন্ন স্থানে চুলকানি হয়। মেয়েদের লিউকোরিয়া হয় চামড়া শুষ্ক । ও খসখসে হয়ে যায়, দেহে কোন ক্ষত হলে তা সহজে সারে না। প্রচুর খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যায়।

    রােগি খিটখিটে স্বভাবের হয়ে যায়,সামান্য কারনে উত্তেজিত হয়ে পড়ে, দৃষ্টি শক্তি হঠাৎ কমতে শুরু করে। ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়, অনেকের চুল পড়ে যায়। সময়মত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে, রােগির মৃত্যু হয়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সেরে যায়।

     

    শ্বেতী ছোঁয়াচে অসুখ নয়

     

    শ্বেতী সম্পর্কে অনেক ভান্ত ধারনা এখনও পর্যন্ত আমাদের সমাজে রয়ে গেছে। শুধু গ্রাম্য অশিক্ষিত মানুষদের মধ্যেই নয় শিক্ষিত মানুষরাও শ্বেতী আছে এমন ব্যক্তিদের একটু ভিন্ন চোখেই দেখে । পাশে বসতে পর্যন্ত চায়না। কেউ কেউ আবার শ্বেতীগ্রস্ত ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে করতে ও নারাজ।

    আসলে শ্বেতী রােগের পক্ৰত কারন না জানার জন্যই এই ধরনের ধারনা এখনও সমাজ থেকে দুর করা যায়নি আমাদের ত্বকের উপরিভাগের রং স্বাভাবিক থাকার জন্য দায়ী মেলানি নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। এই রঞ্জক পদার্থের কিছু কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেলেই শ্বেতী বা সাদা দাগ দেখা দেয় কখনাে কখনাে এই সাদা দাগ দেহের দু-একটি স্থানে দেখা যায়। কখনাে বা প্রায় পুরো শরীরে তা ছড়িয়ে পড়ে।

     

    লিভার ঠিকমত কাজ না করলে শ্বেতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রে এটি বাবা-মার থেকে সন্তানদের মধ্যে ছড়াতে পারে । শ্বেতীয় লক্ষণ অনেক সময় প্রকাশ পায় জনাের পর পরই। দেহের বেশি ভাগ অংশই সাদা হয়ে যায়।

    কখনাে আবার শরীরের খুব ছােট অংশ থেকে শুরু হয়। কিন্তু পরে তা সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সব রােগিরা রােদ সহ্য করতে পারেনা। কারও কারও লিভারের গােলমাল হয়, পিত্তবমি হয়, হজমে গােলমাল হয় আয়ুর্বেদি চিকিৎসাতে এর থেকে পুরােপুরি আরােগ্য সম্ভব ।

     

    গর্ভনিরােধক পিল ব্যবহারে পরামর্শ

     

    অনিয়মিতভাবে গর্ভনিরােধক পিল ব্যবহার করলে তাদের অনিয়মিত ব্লিডিং ও সাদা স্রাব হতে পারে। এরজন্য যদিও তেমন চিকিৎসার প্রয়ােজ হয়না। তবে বাড়াবাড়ি হলে এটা নিয়ে বসে থাকাও ঠিক হবেনা ।

    কখনও কখনও গী গােলানাে, বমি, হাত-পা কামড়ানাের সমস্যা হতে পারে। পিল ব্যবহারের জন্য দেখা দিতে পারে মানসিক অবসাদও। যদিও এর জন্য পিল ততােটা দায়ী নয় যতটা দায়ী মহিলার নিজের বিষয়টাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া।

    অনেকের পিল ব্যবহারের জন্য রক্ত চাপ বাড়তে পারে। সােরুল , থ্রম্বােসিস, ভেনাস থ্রম্বােসিস, মায়ােকার্ডিয়ার সংক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি পিল ব্যবহারের জন্য বাড়তে পারে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ। দিতে পারে গলব্লাডার ও লিভারের অসুবিধাও।

     

    দীর্ঘদিন পিল ব্যবহার করার পর সন্তান ধারনে স্থায়ী অক্ষতা এসে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

                       আহারে ও ওষুদে উপকারি আনারস

     

    পাইন গাছের ফলের মতাে দেখতে বলে ইংরেজরা পাইন-আপেল নামে ডাকলেও আমরা মজে আছি অনারসেই। বর্ষায় আনারস দারুণ উপাদেয়। আনারসের আদি বাস ব্রাজিল-অথচ, আমাদের রসনার তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই।

     

    মহামানবের এই ভারতীয়তীর্থে স্বাদে-গন্ধে, বর্ণে-ব্যঞ্জনায় আক্ষরিক অর্থেই এর ভারতীয়করনে ঘটে গেছে। পাকা আনারস ফল হিসেবে খুবই উপকারি বাজারে টিনি ভর্তি আনারসের চাকা পাওয়া যায় সারা বছরই । আনাররে পুষ্টিমূল্য ও বিজ্ঞানীদের কাছে নেহাত ফেলনা নয়।

    এতে শর্করা বেশ ভাল পরিমনেই থাকে। তবে একটু কাঁচা বা আধ পাকা আনারস থেকে এই পরিমান শর্করা মেলেনা। রয়েছে অন্যান্য ভিটামিনসহ প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি বর্ষায়, ভ্যাপসা গরম আর হঠাৎ-হঠাৎ বৃষ্টির-সাতসেতে আবহাওয়াতে আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সাহায্য করে।

    সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা আটকায়। মৌসুমী ফল হিসেবেও আনারস একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে,তবে, ফলের মধ্যে যে ভিটামিন সি থাকে, তা বেশিক্ষণ খােলা হাওয়ায় রাখলে, বেশি ভাল লাগলে বা বেশি গরমে নষ্ট হয়ে যায়। তাই, ফল কেটে বেশিক্ষণ রাখবেন না ! আর বাইরের কাট ফল-কখনাে খাবেন না।

     

    এই ফলের হলুদ অংশে যে ক্যারােটিন থাকে, তাতে পাওয়া যায় ভিটামিন এ । এই ভিটামিনটি যেমন চোখের পক্ষে ভাল-তেমনই আমাদের তারুণ্যকে সজীব-সবুক্ত রাখে। এই ভিটামিনটি এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে আটকে দেয় ক্যান্সারও।

     

    লিভারের রােগ, জন্ডিসে উপকার করে আনারস।আনারসের সরবত-করাও সােজা আর খেতেও ভালাে। আনারসের সরবত খলে গরমের প্রকাশ কমে। গরমের জন্য শরীরের মধ্যে যে সব অস্বস্তি দেখা দেয়, তাও কমে যায়। একই সঙ্গে হার্টের পক্ষেও উপকারি। আনারসের সঙ্গে অন্যান্য ফল মিশিয়ে বাড়িতে মিক্সড ফুড জ্যাম তৈরিকরে নিলে সারা বছর খেতে পারবেন, পাবেন সব ফলের গুণ।

     

     তবে,ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায় বলে-টাটকা, পাকা আনারসের সবগুণ পাওয়া যায় না। তাই, শরীর ভাল রাখতে খাওয়া-দাওয়ায় আনারস রাখুন। এটি একইসঙ্গে আহার ও ওষুধ-দুই হিসেবেই কাজ করবে। এই ফল খালিপেটে খাওয়া উচিত নয়। মন ভাল রাখতেও সাহায্য করে আনারস। রূপ বিক্ষেজ্ঞদের কাছে ও আনারসের অদর, অনার গায়ের রং ফর্সা করে।

                                  আয়ুর্বেদে আনারস

     

    পাকা আনারস রুচিকর। বল বৃদ্ধিকারক, শ্রম ও ক্লান্তি দূর করে। সর্দি-গর্মির হাত থেকে রক্ষা করে। বায়ু ও পিত্তনাশক। আনারসের পাতার গােড়ার দিকের সাদা অংশের রস কৃষি ধ্বংস করে। গর্ভবর্তী মায়েদের আনারস বারণ, কারণ আনারস জরায়ু সংকোচন করে, ফলে গর্ভপাতে সাহায্য করে ।

                    বর্ষাকালীন রােগ ও তার প্রতিকার

     

    সাধারণ কয়েকটি সাবধানতা মেনে চললেই এড়িয়ে চলা যায় বর্ষা য় নানান অসুখ বিসুখ সব বয়সের মানুষকে সুস্থ থাকার জন্যই এটা অত্যন্ত জরুরি ।

    বর বাতাসে পানীয় বাষ্প পানি বেশি পরিমাণে থাকে। তাই জামা-কাপড় তাড়াতাড়ি শুকাতে চায় না। সেইজন্য অনেকে শােবার ঘরে ভিজে জামা-পড়, পাখার তলায় রাখেণ। এটা বিশেষ করে শিশুদের পক্ষে মারাত্মক।

     

    কারণ এতে ঠাণ্ডা লেগে, নানাপ্রকার বিপত্তি ঘটায় আশংকা থাকে। কাঁচা শাক সবজি ও ফল ভাল করে না ধুয়ে খাওয়া উচিত নয় প্রয়ােজনে গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। নচেৎ জিয়ার্ডিয়াসিসের মত নানাবিধ পেটের গণ্ডগােলের সূচনা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযােগ্য। যে খাবারের বাসনপত্র বিশেষত শিশুদের বাসন ভাল করে গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

     

    সতর্কতাঃ- এই তথ্য ইন্টারনেট মিডিয়া বা পুরোনো গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে প্ৰয়োগ করবেন।

     

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *